Friday, June 28, 2013

আইটি প্রশিক্ষণের খুটি নাটি বিষয়



ইংরেজী ইনফরমেশন টেকনোলজি বা আইটি-কে বাংলায় বলা হচ্ছে তথ্য প্রযুক্তি। বর্তমান যুগকে তথ্য প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণ করছে বললে অত্যুক্তি হবে না। বর্তমান যুগে যারাই তথ্য প্রযুক্তিতে উন্নতি করছে তারাই ছড়ি ঘোরাচ্ছে বা ঘোরাতে পারছে। যুগের সাথে তাল মেলাতে আমাদের দেশেও তথ্য প্রযুক্তিতে দক্ষ জনশক্তির প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। খাতে চাকরির বাজারও বড় হয়েছে এবং হচ্ছে। আবার অন্য অনেক কাজেও তথ্য প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারণা থাকাটা জরুরি হয়ে পড়েছে
  চাহিদা পূরণে সরকারি এবং বেসরকারি পর্যায়ে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান তৈরি হয়ে হয়েছে যেখান থেকে তথ্য প্রযুক্তি সংক্রান্ত বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ নেয়া যায়
 এসব প্রতিষ্ঠানের কিছু কিছু কোর্স শেষে সারকারিভাবে স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানের সনদ দিচ্ছে, আবার কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান সনদ দিতে না পারলেও একটা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় দক্ষতা তৈরি করছে প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে। সনদ না পেলেও কর্মক্ষেত্রে  প্রশিক্ষণের প্রমাণ দিচ্ছে প্রশিক্ষণার্থীরা
 কারিগরি শিক্ষা বোর্ড
আগারগাঁও- অবস্থিত বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের প্রশিক্ষণ তদারক করে থাকে। কোর্স শেষে সব প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের প্রশিক্ষণার্থীরা কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের সনদ পেয়ে থাকেন
 কাজেই কোন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ভর্তি হলে সনদ কারা দিচ্ছে, বা আদৌ সনদ মিলবে কিনা সে খোঁজ নেয়া যেতে পারে। আবার কিছু কিছু পরিচিত প্রশিক্ষণ কেন্দ্র আছে যারা নিজেরাই সনদ দেয়। অনেক ক্ষেত্রে সেটিরও কিছুটা মূল্যায়ন হয়
 বিশ্ববিদ্যালয় সনদ
বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগও তাদের নিয়মিত স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর কোর্সের পাশাপাশি বিভিন্ন মেয়াদের শর্ট কোর্স পরিচালনা করে। এসব কোর্স শেষে একটি বিশ্ববিদ্যালয় সনদ পাওয়া যায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় এবং আহসানউল্লাহ বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগ এধরনের কোর্স পরিচালনা করে
 বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় দূরশিক্ষণ পদ্ধতিতে কম্পিউটার বিজ্ঞানের ওপর একটি ডিপ্লোমা কোর্স পরিচালনা করে আসছে। বাংলাদেশের যে কোন জায়গা থেকেই কোর্স করা যায়।
 ভর্তির যোগ্যতা:
ভর্তির যোগ্যতা বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে। তবে সাধারণত বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের কোর্সগুলোতে ভর্তি হলে অন্তত এইচএসসি পাশ হতে হয়
 মহিলা অধিদপ্তর:
রাজধানীর ইস্কাটন গার্ডেনে অবস্থিত মহিলা অধিদপ্তরে কেবলমাত্র মহিলাদের জন্য বিভিন্ন কোর্স পরিচালিত হয়, যার মধ্যে কম্পিউটার কোর্সও রয়েছে। বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তারা শিক্ষার্থী ভর্তি করে
 কোর্সের বিষয়বস্তু খরচ:
বিভিন্ন ধরনের কোর্স রয়েছে। বিশেষ করে বেসরকারি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে কোর্সের বৈচিত্রটা অনেক বেশি

  • একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ের কম্পিউটার অপারেশন, সফটওয়্যার ইনস্টলেশন, বাংলা-ইংরেজী টাইপ, বিভিন্ন এপ্লিকেশন প্রোগ্রাম যেমন মাইক্রোসফট ওয়ার্ড, এক্সেল, পাওয়ার পয়েন্ট ইত্যাদি চালানো ইত্যাদি শেখানোর জন্য কিছু কোর্স রয়েছে। এসব কোর্সের মেয়াদ তিন থেকে ছয় মাস হতে পারে। আর প্রতিষ্ঠানভেদে খরচ দুই হাজার থেকে ছয় হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে
  • একটু উচ্চতর পর্যায়ের কোর্সগুলোর মধ্যে রয়েছে গ্রাফিক্স ডিজাইন। এক্ষেত্রে ফটোশপ, ইলাস্ট্রেটর, কোরেল ড্র ইত্যাদি ব্যবহার করে ডিজাইন শেখানো হয়। এক্ষেত্রে খরচ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে। আর মেয়াদ তিন থেকে ছয় মাস হতে পারে।
  • এছাড়া কম্পিউটার হার্ডওয়্যারের বিভিন্ন কাজ শেখানোর জন্য রয়েছে হার্ডওয়্যার কোর্স। এসব কোর্সে কম্পিউটার হার্ডওয়্যারের বিভিন্ন কাজ যেমন এসেম্বলিং, ট্রাবলশুটিং, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক স্থাপন ইত্যাদি শেখানো হয়। এসব কোর্সের মেয়াদ এক বছর পর্যন্ত হতে পারে, প্রতিষ্ঠানভেদে খরচ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে
  • ডাটাবেজ ম্যানেজমেন্ট: বিভিন্ন ধরনের ডাটাবেজ ম্যানেজমেন্ট কোর্স আছে। এর মধ্যে ওরাকল, মাইএসকিউএল, পিএইচপি উল্লেখযোগ্য। কোন কোন প্রতিষ্ঠান একটি কোর্সেই সবগুলো সম্পর্কে ধারণা দেবার কথা বলে, আবার কোন কোন প্রতিষ্ঠান কোন একটি প্লাটফর্মে প্রশিক্ষণ দেয়। এসব ক্ষেত্রে কোর্সের মেয়াদ বছর পর্যন্ত হতে পারে আর খরচ ১০ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে
  • অন্যান্য কোর্সের মধ্যে আছে ওয়েব ডিজাইন এন্ড ডেভেলপমেন্ট, থ্রি ডি এনিমেশন, ভিডিও এডিটিং, প্রোগ্রামিং, সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, অটো ক্যাড ড্রয়িং ইত্যাদি
 তথ্যসূত্র: www.online-dhaka.com


No comments:

Post a Comment